পৃথিবীর সব সাগরে যে পরিমাণ লবণ আছে, তা দিয়ে পৃথিবীকে ৫০০ ফুট পুরু লবণের স্তূপ দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে
পৃথিবীর বিস্ময়কর এক বৈশিষ্ট্য হলো—এর সাগর-মহাসাগরগুলোতে লুকিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ লবণ। আমাদের চারপাশের নীল জলরাশির ভেতরে যে বিশাল পরিমাণ লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় আছে, তা কল্পনার অতীত। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর সব সাগর থেকে যদি সব লবণ সংগ্রহ করে এক জায়গায় জড়ো করা হয়, তাহলে তা দিয়ে পুরো পৃথিবীর উপরিভাগকে প্রায় ৫০০ ফুট পুরু লবণের স্তূপ দিয়ে ঢেকে ফেলা সম্ভব।
এটি বোঝার জন্য কিছু সংখ্যাতত্ত্ব দেখা যাক। পৃথিবীর সমুদ্রে প্রতি কিউব কিলোমিটার পানিতে গড়ে প্রায় ৩৫ গ্রাম লবণ দ্রবীভূত থাকে, যাকে আমরা “স্যালিনিটি” বা লবণাক্ততা বলি। পুরো মহাসাগরগুলোর মোট আয়তন প্রায় ১৩৫ কোটি ঘনকিলোমিটার (1.35 billion cubic kilometers)। এর মানে, পানিতে দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪.৮ কুইন্টিলিয়ন টন (অর্থাৎ ৪.৮ × ১০^১৮ টন)।

এই পরিমাণ লবণ যদি জলে দ্রবীভূত না থেকে কঠিন অবস্থায় একত্রিত করা হয়, তবে তা দিয়ে পৃথিবীর পুরো স্থলভাগকে প্রায় ৫০০ ফুট (প্রায় ১৫০ মিটার) পুরু লবণের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে ফেলা যাবে। এই স্তরটি হবে একটি ৪৫ তলা ভবনের সমান উঁচু!
এই হিসেবটি আমাদের শুধু মহাসাগরের লবণের পরিমাণ বোঝায় না, বরং পৃথিবীর পানির চক্র ও রসায়নকেও তুলে ধরে। সাগরের লবণ মূলত নদী থেকে আসে। বৃষ্টি যখন ভূমিতে পড়ে, তখন তা বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য ভেঙে ফেলে এবং সেই খনিজ পদার্থ নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছে যায়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রক্রিয়ায় সাগরের লবণাক্ততা তৈরি হয়েছে।
এই তথ্য আমাদের দেখায়, প্রকৃতির নানা প্রক্রিয়া কতটা বিস্ময়কর ও জটিল, এবং কীভাবে সামান্য পানি, বৃষ্টি ও খনিজ একসাথে মিলে বিশ্বজুড়ে এত বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।